আমাদের কারখানাযেখানে নেটটা আসলে তৈরি হয়
আমরা কোনো ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান নই — নিজেদের কারখানায় নিজেরাই নেট বানাই। 2015–16 সাল থেকে, সেমি-অটোমেটিক মেশিনে অভিজ্ঞ কারিগরের তত্ত্বাবধানে। এই কারণেই দোকানের চেয়ে দাম কম, আর যেকোনো গেজ-মেশে কাস্টম বানানো সম্ভব।

টঙ্গী থেকে কেরানীগঞ্জ — কেন কারখানা সরালাম
আমাদের প্রথম কারখানা ছিল টঙ্গীতে। কিন্তু তারের নেট বানানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কাঁচামাল — আর জিআই তার আমাদের আনতে হয় ঢাকার নয়াবাজার ও বংশাল এলাকা থেকে।
টঙ্গী থেকে বারবার কাঁচামাল আনা-নেওয়ায় পরিবহন খরচ ও সময় — দুটোতেই চাপ পড়ত। সেই বাস্তব সমস্যা থেকেই কারখানা সরিয়ে আনা হয় কেরানীগঞ্জের কদমতলী, বন্দ ডাকপাড়ায়। কাঁচামালের বাজারের কাছাকাছি হওয়ায় উৎপাদনের logistics এখন অনেক সহজ।
শুরুটা ছিল খুব ছোট — একজন কারিগর আর একজন সহকারী। তখন নেট বানিয়ে স্থানীয় দোকানে সরবরাহ করা হতো। 2023 সালে অনলাইনে আসার পর গ্রাহক সরাসরি নিজের প্রয়োজনমতো গেজ, মেশ ও উচ্চতা বলে অর্ডার দিতে শুরু করেন। এখন কারখানায় 10–12 জন কাজ করেন।
টঙ্গীতে শুরু — 1 কারিগর, 1 সহকারী, দোকানে সরবরাহ
কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর — কাঁচামালের কাছাকাছি
অনলাইন শুরু — সারা দেশে সরাসরি ডেলিভারি
সেমি-অটোমেটিক মেশিন + অভিজ্ঞ কারিগর
অনেকে ভাবেন ফুল-অটোমেটিক মেশিন মানেই ভালো। বাস্তবে শুধু automation level দেখলে হয় না — কাঁচামালের অপচয়, মান নিয়ন্ত্রণ ও সামগ্রিক উৎপাদন খরচ সবই হিসাব করতে হয়।
আমাদের অভিজ্ঞতায় সম্পূর্ণ অটোমেটিক সিস্টেমে কিছু ক্ষেত্রে অপচয় বেশি হয়। সেমি-অটোমেটিকে কারিগর উৎপাদনের সময় তারের টান, মেশের গঠন ও ফিনিশিং দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করতে পারেন। শ্রমিক খরচ কিছুটা বেশি হলেও সেই টাকা মানুষের মজুরি ও কর্মসংস্থানে যায় — আমাদের কাছে এটা শুধু হিসাব নয়, একটা সিদ্ধান্ত।
উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত পড়ুনকাঁচামাল থেকে ডেলিভারি — 8 ধাপ
- 01কাঁচামাল সংগ্রহনয়াবাজার ও বংশাল থেকে জিআই তার আনা হয়।
- 02ওয়্যার প্রস্তুতিঅর্ডারের গেজ অনুযায়ী তার বাছাই ও মেশিনের জন্য প্রস্তুত করা।
- 03মেশিন ফিডিংসেমি-অটোমেটিক মেশিনে তার ফিড করা, কারিগর টেনশন নিয়ন্ত্রণ করেন।
- 04মেশ তৈরিনির্দিষ্ট মেশ সাইজে হীরাকৃতি জাল বোনা হয়।
- 05সাইজ নিয়ন্ত্রণমেশের ঘর ও প্রস্থ মেপে দেখা হয় — এখানেই কারিগরের চোখ কাজে লাগে।
- 06কাটিং ও জয়েনিংঅর্ডারের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী কেটে, প্রয়োজনে চেইন খুলে জোড়া দেওয়া।
- 07রোলিংসমানভাবে রোল করে বাঁধা হয়।
- 08ফিনিশিং ও ডেলিভারিশেষ যাচাইয়ের পর প্যাকিং, তারপর 64 জেলায় পাঠানো।
প্রতিটি রোলে যা দেখা হয়
গ্রাহক আসলে একটা তার কেনেন না — একটা স্পেসিফিকেশন কেনেন। সেটা ঠিক রাখাই আমাদের কাজ।
গেজ যাচাই
অর্ডারে যে গেজ বলা হয়েছে, তারের প্রকৃত পুরুত্ব সেটাই কি না মেপে দেখা হয়।
মেশ সাইজ
প্রতিটি রোলে ঘরের মাপ সমান রাখা — উৎপাদনের সময় সামান্য tolerance স্বাভাবিক, কিন্তু নজরে রাখা হয়।
জয়েন্টের মজবুতি
মেশের জোড় ঠিকভাবে বসেছে কি না, কারিগর হাতে ধরে যাচাই করেন।
কোটিং
গ্যালভানাইজড তারে জিংক কোটিং ঠিক আছে কি না, হ্যান্ডলিংয়ে উঠে যাচ্ছে কি না দেখা হয়।
একটা কথা সরাসরি বলি — বিদ্যুৎ
বাংলাদেশে উৎপাদন ব্যবসার সবচেয়ে বাস্তব সমস্যা বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বিদ্যুৎ না থাকলে আমাদের উৎপাদনও কমে যায়, আর কখনো কখনো গ্রাহককে দেওয়া ডেলিভারির সময়ও পিছিয়ে যায়।
আগে বিদ্যুৎ গেলে অনেক বেশি সময় কাজ বন্ধ রাখতে হতো। এখন পরিস্থিতি অনুযায়ী সীমিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় — তবু স্বাভাবিক অবস্থার মতো উৎপাদন হয় না। জরুরী অর্ডারের আগে কল করে জেনে নিলে বাস্তব সময়টা বলে দিতে পারব।
শুধু বানাই না — লাগিয়েও দিই
আমাদের নিজস্ব ইনস্টলেশন টিম আছে। ঢাকার আনন্দপুরী হাউজিং ও পুলিশ হাউজিংসহ বিভিন্ন এলাকায় বাউন্ডারির কাজ করেছি। একটা এলাকায় একটা কাজ ভালো হলে আশেপাশের মানুষ দেখে জিজ্ঞেস করেন — "এই কাজটা কে করেছে?" — সেখান থেকেই পরের অর্ডার আসে।
সম্পূর্ণ কেস স্টাডি দেখুন980 বর্গফুট কমার্শিয়াল প্লট
- বাউন্ডারি
- 196 ফুট × 5 ফুট
- স্পেসিফিকেশন
- 13 গেজ, 1 ইঞ্চি মেশ
- নেট
- 4 রোল
- টিম
- 3 জন
- সময়
- 2 ঘণ্টা 45 মিনিট
নিজে এসে দেখে যান
গেজ মেপে, মেশ গুনে, হাতে ধরে যাচাই করুন — তারপর সিদ্ধান্ত নিন। আসার আগে একটা কল দিলে আপনার প্রয়োজনের নমুনা তৈরি রাখতে পারব।
কারখানা নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা
BWNFBD-এর কারখানা কোথায়?
কারখানার ঠিকানা চৌধুরী জামে মসজিদ, বন্দ ডাকপাড়া, কদমতলী, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ। ল্যান্ডমার্ক — চৌধুরী জামে মসজিদ। এর আগে কারখানা টঙ্গীতে ছিল; কাঁচামাল নয়াবাজার ও বংশাল থেকে আনতে হয় বলে পরিবহন খরচ ও সময় কমাতে কেরানীগঞ্জে সরিয়ে আনা হয়।
কারখানায় দিনে কত নেট তৈরি হয়?
পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে দিনে প্রায় 10–15 রোল উৎপাদন হয়, মাসে গড়ে 250–350 রোল সরবরাহ করা হয়। তবে এটি নির্দিষ্ট সংখ্যা নয় — অর্ডারের পরিমাণ, কাঁচামালের সরবরাহ, মেশিনের অবস্থা ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।
কারখানায় কী ধরনের মেশিন ব্যবহার করা হয়?
সেমি-অটোমেটিক মেশিন, সঙ্গে অভিজ্ঞ কারিগরের নিবিড় তত্ত্বাবধান। সম্পূর্ণ অটোমেটিক মেশিনে গতি বেশি হলেও কিছু ক্ষেত্রে কাঁচামালের অপচয় বেশি হয়; সেমি-অটোতে কারিগর উৎপাদনের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করতে পারেন।
কারখানায় কতজন কাজ করেন?
বর্তমানে প্রায় 10–12 জন। শুরুতে ছিলেন মাত্র একজন কারিগর ও একজন সহকারী — অর্ডার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মী সংখ্যাও বেড়েছে।
কারখানায় গিয়ে নেট দেখা যাবে?
হ্যাঁ। শনিবার – বৃহস্পতিবার, সকাল 9টা – সন্ধ্যা 6টা পর্যন্ত খোলা থাকে (শুক্রবার বন্ধ)। আসার আগে +880 15 1114 1111 নম্বরে একটা কল দিলে আপনার প্রয়োজনের নমুনা তৈরি রাখা যায়।
উৎপাদনে সবচেয়ে বড় সমস্যা কী?
বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায় এবং কখনো কখনো ডেলিভারির সময়ও পিছিয়ে যায়। পরিস্থিতি অনুযায়ী সীমিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে স্বাভাবিক অবস্থার মতো উৎপাদন হয় না।
কারখানা দরে অর্ডার করুন
মাঝখানে কেউ নেই — তাই দাম কম, আর যেকোনো স্পেসিফিকেশনে কাস্টম বানানো সম্ভব।